বাড়ি খেলাধুলা আগে ফাইনালে চোখ কিশোরী ফুটবলারদের

আগে ফাইনালে চোখ কিশোরী ফুটবলারদের

158

বাংলাদেশের পুরুষ এবং মহিলা ফুটবল দল দুটোই এখন দেশের বাইরে খেলছে। অবশ্য মহিলা দল বললে ভুল হবে। বলতে হবে কিশোরী ফুটবল দল। কারণ এই দলটি যে অনূর্ধ্ব–১৫ বছর বয়সী। পুরুষ দল যখন একের পর এক লজ্জা উপহার দিচ্ছে তখন বিজয়ের গৌরবে গর্বিত করছে কিশোরী ফুটবলাররা। এশিয়ান গেমসে যখন পুরুষরা আরো একটি লজ্জার পরাজয় বরণ করল তখন কিশোরীরা দলকে নিয়ে গেছে সেমিফাইনালে। শুধু তাই নয়, পুরুষ দল যেখানে হারার আগে হেরে বসছে সেখানে কিশোরীরা পাত্তাই দিচ্ছেনা কোন প্রতিপক্ষকে। বলা যায় প্রতিপক্ষকে নিয়ে খেলছে বাংলাদেশের নারি ফুটবল দল। এবারের সাফ অনূর্ধ্ব–১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলার কিশোরীরা অংশ নিচ্ছে আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। আর শুরুটা যেন উল্কার মত। প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানকে দিয়েছে ১৪ গোল। আর পরের ম্যাচে মহিলা ফুটবলে অন্যতম শক্তিধর দল নেপালকে হারিয়েছে তিন গোলে। এই দুই ম্যাচে ১৭ গোল দিয়েছে প্রতিপক্ষের জালে শামসুননাহার–মারিয়া–তহুরারা।

শুধু কি তাই । এবারের আসরের প্রথম দুই ম্যাচে যে অজেয় বাংলাদেশের কিশোরীরা তা কিন্তু নয়। বালিকাদের দক্ষিণ এশিয়ার টুর্নামেন্টে গোল না খাওয়ার রেকর্ড আরো মজবুত করলো বাংলাদেশ। গত সোমবার নেপালকে ৩–০ গোলে হারিয়ে টানা ৬ ম্যাচ নিজেদের গোল পোস্ট অক্ষত রাখলো বাংলাদেশের কিশোরীরা। খেলাটা যেন হচ্ছে প্রতিপক্ষের গোল পোস্টের সামনে। বাংলাদেশের গোল রক্ষককে বেশিরভাগ সময় নিজেকে ফিট রাখতে ওয়ার্ম আপ করতে হয়। অপেক্ষায় থাকতে হয় কখন একটি বল আসে। সাফ অনূর্ধ্ব–১৫ বালিকা চ্যাম্পিয়নশিপের এটি দ্বিতীয় আসর। প্রথম আসর বসেছিল গত বছর ডিসেম্বরে ঢাকায়। ওই আসরে বাংলাদেশ হয় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। সে আসরে বাংলাদেশ প্রথম রাউন্ডে ৩ ম্যাচে করেছিল ১২ গোল। প্রথম ম্যাচে নেপালকে হারিয়েছিল ৬–০ গোলে। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানকে ৩–০ হারায় গোলে। তৃতীয় ম্যাচে ভারতকেও সেই ৩–০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে থেকে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশের কিশোরীরা। আর ফাইনারেও কোন গোল হজম করেনি বাংলার কিশোরীরা। ফাইনালে ভারতকে ১–০ গোলে হারিয়ে প্রথম বারের মত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।

টানা ৬ ম্যাচে অজেয় এবং নিজেদের গোল পোস্ট অক্ষত রাখা বাংলাদেশের কিশোরীরা প্রতিপক্ষের জালে গোল দিয়েছে ৩০ গোল। হজম করেনি একটিও। ৫৪০ মিনিট নিজেদের পোস্ট অরক্ষিত রেখে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। আর এখানে যেন কোন দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশের মেয়েরা তা কিন্তু নয়। ভারতের মত দল কোন গোল দিতে পারেনি বাংলাদেশকে। গত আসরের অক্ষত এবং অজেয় থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবারের আসরের গ্রুপ পর্বেও। বলা যায় ভুটানেও দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে ভালোভাবেই এগিয়ে চলছে লাল–সবুজ জার্সিধারী কিশোরীরা। প্রথম ম্যাচে নবাগত পাকিস্তানকে ১৪–০ গোলে বিধ্বস্ত করে দ্বিতীয় ম্যাচে নেপালকে হারালো ৩–০ ব্যবধানে। এখন বাংলাদেশের কিশোরীদের লক্ষ্য আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা। যেখানে সেমিফাইনালে শামসুননাহারদের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভুটান। অপর গ্রুপ থেকে রানার্স আপ হয়ে সেমিতে পা রাখে ভুটানের মেয়েরা। শেষ ম্যাচে তারা ভারতের কাছে মাত্র এক গোলে হেরেছে। কাজেই সেমিফাইনালে যে, তারা বাংলাদেশকে ছেড়ে কথা বলতেনা সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। তবে সে সব নিয়ে ভাবতে চায়না বাংলার কিশোরীরা। তাদরে সামনে একটাই লক্ষ্য, আর সেটা হচ্ছে আগে ফাইনাল নিশ্চিত করা। এরপর ফাইনালে কে আসবে না আসবে সেটা পরে দেখা যাবে। স্বাগতিক ভুটনাকে নিয়েও কোন চিন্তা নেই বাংলাদেশর কিশোরীদের। দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন শুধূ মেয়েদের বলেছেন যে খেলাটা এতদিন খেলে এসেছে সেটাকে কেবল ধরে রাখতে। নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে সেমিফাইনালটাও সহজেই পার করা যাবে বলে মনে করেন কোচ। আর মেয়েদের মাঝেও সে মনোভাবটা কাজ করছে। তারা চাইছে আগে ফাইনাল নিশ্চিত করতে। যদিও আসল লক্ষ্য শিরোপা ধরে রাখা। তবে বাংলার মেয়েদের সে মিশন সফল হবে তেমনটি ভাবছেন বাংলাদেশের অগনিত ফুটবল সমর্থক। কারণ পুরুষ ফুটবল দলের কাছ থেকে খারাপ খবর পেতে পেতে ফুটবলের প্রতি যেন অনীহা চলে এসেছে এদশের ফুটবল পাগল মানুষদের। তাই তারা অন্তত নারীদের কাছ থেকে হলেও একটা সুখবর পেতে চায়। আর দেশের জন্য আরেকটি সুখবর বয়ে আনতেও প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের কিশোরীরা। গ্রুপ পর্বের পর বাংলাদেশ ৩ দিন সময় পেয়েছে সেমিফাইনালের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য । গতকাল মঙ্গলবার গোলাম রব্বানী ছোটন চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে মেয়েদের অনুশীলন করিয়েছেন। অনুশীলনে দারুণ ফুরফুরে মেজাজে ছিল বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবলাররা। এরপর সন্ধ্যায় দলীয় কোচ টিম মিটিং করেছেন মারিয়া, তহুরা, সাজেদাদের নিয়ে। যেখানে আকা হচ্ছে ভুটান বধের ছক।