বাড়ি হালিশহর চট্টগ্রাম হালিশহরে চার মাসে জন্ডিসে আক্রান্ত ২১০৭ জন

চট্টগ্রাম হালিশহরে চার মাসে জন্ডিসে আক্রান্ত ২১০৭ জন

200

চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় চারমাসে ২ হাজার ১০৭ জন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। পানিতে ‘জীবাণু’ থাকার কারণে হঠাৎ করে জন্ডিসের প্রকোপ বৃদ্ধির খবরে হালিশহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং জন্ডিসে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে সেবাসংস্থাগুলো হালিশহরে জন্ডিসের প্রকোপ বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জন্ডিসের প্রকোপ ঠেকাতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

হালিশহর এলাকায় জন্ডিসের প্রকোপ মহামারী আকার ধারণ করায়, এর প্রকৃত কারণ জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) কর্তৃপক্ষ ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। যেখানে চসিকের পাশাপাশি, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি রাখা হয়।

এ কমিটি হালিশহর এলাকার ওয়াসার পানিকে দুইভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার করেন। অন্যদিকে, জন্ডিসের প্রকোপ ঠেকাতে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য নগরের হালিশহর, আগ্রাবাদ ও নয়াবাজারে তিনটি স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এ ছাড়া ফৌজদারহাটে ১০০ বেডের একটি হাসপাতাল প্রস্তুত রেখেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, হালিশহরে জন্ডিসের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে গণমাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। পরে চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশনায় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। এ কমিটি হালিশহরের ওয়াসার পাইপের পানি ও রির্জাভারের পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করেন। প্রতিবেদনে ওয়াসার পাইপের পানিতে কোনো জীবাণু না পেলেও রির্জাভারের পানিতে জীবাণু পাওয়া যায়। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে বাসা-বাড়ির রির্জাভারের পানি পরিষ্কার করার নির্দেশনার কথা জানিয়ে ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী ফুটিয়ে পানি পান করার পরামর্শ দেন।

হালিশহরের জন্ডিসের প্রকোপ ঠেকাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কেলেজ হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, হালিশহর ও আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে ৩ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন ক্যাম্প ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে ৫ হাজার করে আরও ৩ লাখ বড়ি দেওয়া হবে। যে বড়িগুলো এলাকায় গিয়ে গিয়ে বিতরণ করা হবে। আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোলরুমও খোলা হয়েছে।

হালিশহরে জন্ডিসের প্রকোপ নিয়ে আইইডিসিআর (রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট), আইসিডিডিআরবি’র (ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ), ডব্লিওএইচও (ওয়াল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও চট্টগ্রামে এসেছেন। তাদের সাথে সমন্বয় করে কর্মকাণ্ড চলছে। যোগ করেন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।

সিভিল সার্জন আরও বলেন, হালিশহর এলাকায় ওয়াসার পানি পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে জীবাণু পাওয়া যায়নি। কিন্তু অনেক সংস্থা বলছে, হালিশহর এলাকায় ওয়াসার পাইপে লিকেজ আছে। সেগুলো থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে। মহালিশহর এলাকায় গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২ হাজার ১০৭ জন এবং মে মাস থেকে ৯৫২ জন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানান সিভিল সার্জন।