বাড়ি খেলাধুলা স্পিন ভেল্কিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ লংকানদের

স্পিন ভেল্কিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ লংকানদের

192

টেস্ট সিরিজটা শ্রীলংকার। আর ওয়ানডে সিরিজটা দক্ষিণ আফ্রিকার। বাকি ছিল টি–টোয়েন্টি সিরিজটি। তাও আবার এক ম্যাচের সিরিজ। আর সে সিরিজটি জিতে নিল স্বাগতিক শ্রীলংকা। স্বাগতিক স্পিনারদের সামনে পড়ে খেই হারিয়ে ফেলা দক্ষিণ আফ্রিকা শেষ পর্যন্ত কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও হার এড়াতে পারেনি। তিন স্পিনার লাকসান সান্দাকান, আকিলা দনাঞ্জয়া ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা প্রথমবারের মতো একশ রানের নিচে গুটিয়ে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় হঠাৎ দিক হারানো শ্রীলঙ্কা জিতলো দিনেশ চান্দিমালের দৃঢ়তায়। একমাত্র টি–টোয়েন্টিতে ৩ উইকেটে জিতেছে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের দল। ৯৯ রানের লক্ষ্য ২৪ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কাসুন রাজিথার প্রথম ওভারে তিন বাউন্ডারিতে ১৩ রানে তুলে নেন কুইন্টন ডি কক।

দুর্দান্ত শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও শেষ পর্যন্ত আর পারেনি প্রোটিয়াসরা। দ্বিতীয় ওভার থেকেই আক্রমণে স্পিন আসতেই বেরিয়ে পড়ে অতিথিদের দুর্বলতা। আর সে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি শেষ পর্যন্ত। চায়নাম্যান সান্দাকান আর দুই অফ স্পিনার দনাঞ্জয়া আর ডি সিলভা গুঁড়িয়ে দেন অতিথিদের ব্যাটিং লাইনআপ। অতিথিরা গড়তে পারেনি তেমন কোনো জুটি। সে সাথে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউই। ফলে ১৬.৪ ওভারে ৯৮ রানে গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস । টি–টোয়েন্টিতে এটাই তাদের সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর । ২০১৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা ১০০ রান ছিল আগের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এবার শতরানের নিচে আটকে গেল প্রোটিয়াসরা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২০ রান করেন কুইন্টন ডি কক। এছাড়া রিজা হেনড্রিকস ফিরেন ১৯ রান করে। ওপেনার হাশিম আমলাসহ চার ব্যাটসম্যান খুলতে পারেননি রানের খাতা। শ্রীলংকার পক্ষে চায়নাম্যান সান্দাকান ৩ উইকেট নিয়েছেন ১৯ রানে। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন দনাঞ্জয়া ও ডি সিলভা।

মাত্র ৯৯ রানের ছোট পুঁজি । আর এই সামান্য পুজি নিয়েও প্রাণপণ লড়াই করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ওভারেই দুই উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের বেশ ভাল একটি ধাক্কা দিয়েছিলেন পেসার কাগিসো রাবাদা । তিনি ফেরান কুসল পেরেরা ও কুসল মেন্ডিসকে। তবে তৃতীয় উইকেটে ডি সিলভার সঙ্গে ৫৩ রানের জুটির উপর ভর করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেয় শ্রীলঙ্কা। ২৬ বলে ৩১ রান করা ডি সিলভাকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন জুনিয়র ডালা। পরে এই পেসার ফিরিয়ে দেন দাসুন শানাকাকে। অতিথিদের চায়নাম্যান তাবরাইজ শামছি রানের খাতা খোলার আগেই ফিরিয়ে দেন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস এবং দলের সবচাইতে কার্যকর ক্রিকেটার থিসারা পেরেরাকে। তবে এরপর ইসুরু উদানাকে নিয়ে বাকি কাজটা সহজেই সারেন দিনেশ চান্দিমাল। ৩৩ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন লঙ্কান এই উইকেট কিপার–ব্যাটসম্যান। পুরো চার ওভার হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সিরিজও নিশ্চিত করে লংকানরা। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন কাগিসু রাবাদা, তাবরাইজ শামছি এবং জুনিয়র ডালা। ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছেন স্বাগতিক দলের অল রাউন্ডার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা।