বাড়ি হালিশহর আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশায় প্রবীণদের সাথে একাধিক তরুণও

আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশায় প্রবীণদের সাথে একাধিক তরুণও

132

চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং–হালিশহর–খুলশী) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা অনেক দীর্ঘ। এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌঁড়ে রয়েছেন প্রবীণদের সাথে একাধিক তরুণও। মূলত মনোনয়ন লাভের আশায় প্রবীণ এবং তারুণ্যের পদচারণায় চট্টগ্রাম–১০ আসনের প্রত্যন্ত অঞ্চল বেশ জমে উঠেছে।

এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ডাঃ আফছারুল আমীনসহ আওয়ামী লীগের আগ্রহী প্রার্থী ৯জন। মনোনয়নের দৌঁড়ে আছেন সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম ও বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর পুত্র শিল্পপতি হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফানও। মনোনয়ন লাভের প্রথম কাতারে থাকা এই আসনের আওয়ামী লীগের দু’বারের সংসদ সদস্য ডা. আফছারুল আমীনের সাথে নির্বাচনী মাঠে আরো যারা আছেন তারা হলেন– যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী জননেতা এম এ আজিজের ছেলে নগর আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব মোঃ জাবেদ নজরুল ইসলাম ও বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি শিল্পপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু।

দু’বারের সংসদ সদস্য–মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডা. আফছারুল আমীন আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে চান। এদিকে এই আসন থেকে এবারই প্রথমবারের মতো মনোনয়ন প্রত্যাশী বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরী ও জননেতা এম এ আজিজের পরিবারের সদস্যরা। চট্টগ্রামে এই দুই পরিবারের সদস্যদের প্রতি অনেক বেশি আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর–কোতোয়ালী আসনকে ভাগ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে গঠিত হয় চট্টগ্রাম–১০ আসন। এরপরের দু’টি নির্বাচনেই জয় পেয়েছেন ডাঃ আফছারুল আমীন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায়ও ছিলেন ডা. আফছারুল আমীন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয় লাভ করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো মনোনয়ন চাইবেন ডা. আফছারুল আমীন। এই ব্যাপারে তিনি আজাদীকে বলেন, ‘আমার এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড আমার ঘুছানো। আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে উঠোন বৈঠক শুরু করেছি অনেক আগে থেকেই। এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। কেন্দ্র কমিটিও আমি করে রেখেছি। নির্বাচন আসলে অনেকেই মনোনয়ন চায়। কিন্তু মনোনয়ন দিবেন দলের সভানেত্রী–প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই আসন থেকে আমাকে বারবার মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ছাত্র জীবন থেকেই আমি এবং আমার পরিবারের সাথে এই এলাকার মানুষের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আমি গত সাড়ে ৯ বছরেরও বেশি সময় এলাকার মানুষের সাথে ছিলাম। তাদের সুখে–দুখে সব সময় পাশে ছিলাম। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি। কর্মীদের নিয়েই চলেছি। সুতরাং আবারও মনোনয়ন চাইবো এবং আশা করি পাবো। এলাকার জনগণ আমাকে ভালোবাসেন।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১০ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জহুর আহমদ চৌধুরীর সন্তান হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফান বলেন, ‘আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ট সহযোগী ছিলেন। চট্টগ্রাম শহর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা। আমাদের ঘর থেকে ৬ দফা, ১১ দফা সহ চট্টগ্রামে স্বাধীনতার প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়া হতো। আমার পিতার মৃত্যুর পর আমরা কেউই কখনো মনোনয়ন চাইনি। আমি হঠাৎ করে রাজনীতিতে আসিনি। দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নেপথ্যে কাজ করে আসছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হিসেবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন, দলের নেতা নির্বাচন, চট্টগ্রামে দলের বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। আমাদের পরিবার থেকে তো আমাদের দাবিও আছে। জহুর আহম্মদ চৌধুরীর সন্তান হিসেবে সভানেত্রীর কাছের লোক হিসাবে নীরবে চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে গেলেও পূর্বে কখনো সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ এবং প্রার্থী হননি। তাই এবার মনোনয়ন চাইবো। আমি মনে করি বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ ও চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য আমি অনেক কাজ করতে পারবো।’

উল্লেখ্য হেলাল উদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্য কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করে ইতিমধ্যে বিজিএমইএ, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কর্মাস, এফবিসিসিআইএ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক এবং বিজিএমইএ ও এফবিসিসিআই– এর সক্রিয় নেতৃত্বে আছেন। সাবেক রে‌্যাটারেক্ট সভাপতি ও বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক সহ–সভাপতি, শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সদস্য, বিইআইএফটি চট্টগ্রামের বর্তমান চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, ‘সারাদেশে নেত্রী ক্লিন ইমেজের প্রার্থী খুঁজছেন। ১৯৭৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ মৌলভী সৈয়দ আহমদ ও আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ জিয়া সরকারের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ‘চট্টগ্রাম ষড়যন্ত্র’ মামলায় ঢাকা ক্যান্টনম্যান্টে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ৪ বছর কারা ভোগের পর ১৯৮০ সালে মুক্তি পাই। সেই থেকে রাজনীতি থেকে আর পিছ পা হইনি। দলের দুর্দিনে কাজ করেছি দলের জন্য। এতোদিন দল থেকে কিছু চাইনি। দীর্ঘদিন পর দল থেকে মনোনয়ন চাইবো। এখন তো আমাদের মনোনয়ন চাওয়ার বয়স হয়েছে। নেত্রী যদি মনে করেন হয়তো মনোনয়ন দিতে পারেন। এই আশায় প্রার্থী হয়েছি।’ সৈয়দ মাহমুদুল হক বলেন, ছাত্র জীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের রাজনীতি করে আসছি। দলের জন্য আমাদের পরিবারের অনেক ত্যাগ আছে। তাই এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবো। যদি নেত্রী (দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো।

এই আসনের দুই তরুণ প্রার্থী নগর যুবলীগের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু এবং ফরিদ মাহমুদ। দুজনেরই রাজনৈতিক গুরু প্রয়াত জননেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া মহিউদ্দিন বাচ্চু এবার আশায় বুক বেধেছেন। তিনি বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকে চট্টগ্রাম–১০ আসনের বিভিন্ন এলাকায় আমি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করে আসছি। সারা চট্টগ্রামেই করেছি, তবে এ এলাকায় বেশি। চট্টগ্রাম–১০ আসনে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে আমি সম্পৃক্ত। এলাকার মানুষের কল্যাণে ছোট ছোট উদ্যোগে কিছু করার চেষ্টা করছি। যুবলীগের কর্মকাণ্ড নিয়েও মানুষের কাছে যাচ্ছি। সামাজিক কাজও করছি। এলাকার মানুষ চায় নির্বাচন করি। তাই এবারো মনোনয়ন চাইবো। দলের সভানেত্রী যদি মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো। রাজনীতি যখন করি নির্বাচনের আশাতো আছেই। সেই আশা থেকেই প্রার্থী হওয়া।’

তার দাবি এলাকার মানুষ তাকে ভালবাসে। তার ওপর আস্থা রাখে। তিনি বিশ্বাস করেন তাকে মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের সেবার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবেন।

ইতোমধ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জনসম্পৃক্ততা ধরে রেখেছেন নগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদ মাহমুদ। এবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম ১০ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য মাঠে নেমেছেন তিনি। ফরিদ মাহমুদ বলেন, ‘এলাকায় সকল কর্মকাণ্ডে আছি। সৃজনশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সরকারের নানান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুর্গত এলাকার মানুষের কাছে যাচ্ছি। সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনেও আমার অংশগ্রহণ আছে। মানুষ এখন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী চায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে আমি সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবো’।

ফরিদ মাহমুদ বলেন, চট্টলবীর আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পরামর্শে আমি জনগণের সুখে দুখে পাশে থেকে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সরকারের সারাদেশের উন্নয়নের প্রকল্পগুলো জনগের মাঝে তুলে ধরতে গিয়ে যথেষ্ট সাড়া পেয়েছি। সদিচ্ছা থাকলে এ আসনের জনগণের জন্যে অনেক কিছুই করা সম্ভব। এখানে সংকট যেমন আছে, অপার সম্ভাবনাও আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে আমাকে মনোনীত করলে আমি জনগণ ও সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টা চালাবো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফরিদ মাহমুদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে এই নির্বাচনী এলাকা। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে পুরো আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক গুরু প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাঁর কাছ থেকে রাজনীতি শিখেছি। তাঁর উৎসাহে আমি নির্বাচনী মাঠে নেমেছি। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরতে ঘরে ঘরে যাচ্ছি।

এই আসনে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে থেকে তিনবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়া এম মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সিটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে আবারও মেয়র প্রার্থী হন। তবে নির্বাচনের দিন তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। সমপ্রতি সামাজিক কর্মকাণ্ডে আবারও সরব হয়েছেন শিল্পপতি ও দানবীর হিসেবে পরিচিত মনজুর আলম। চট্টগ্রাম–১০ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন–এমন কথা লোকমুখে শোনা গেলে–গতকাল তার সাথে এই ব্যাপারে কথা হয়। এসময় তিনি আজাদীকে বলেন, ‘সবাই বলছেন–আমি আওয়ামী লীগ থেকে যেন নির্বাচন করি। আমি সমাজসেবা নিয়ে আছি। রাজনীতিও সমাজসেবার অংশ। সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করে চলেছি। আমি এক মুহূর্তও বসে নেই। প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবো। মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবো।’

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার বলেন, ‘আমি বিখ্যাত রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। রাজনীতিক বাবার (জননেতা এমএ আজিজ) সন্তান হয়েও আমি ওয়ার্ড ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি শুরু করে এ পর্যায়ে এসেছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার পিতার অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। জাতির পিতার স্নেহধন্য আমাদের পরিবার। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমাদেরকে খুবই স্নেহ করেন। নেত্রী (আওয়ামী লীগ সভাপতি–প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যদি বলেন তাহলে আমি নির্বাচন করবো। আমি গতবারও মনোনয়ন চেয়েছি। এবারও মনোনয়ন চাইবো।’

আলহাজ্ব মোঃ জাবেদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোন পদপদবীর তোয়াক্কা না করে আজ অবদি মাঠে ময়দানে থেকে দলের স্বার্থে নিরলস কাজ করে চলেছি। ১৯৭৪ সালে আমি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড (বর্তমানে ২৪ নং ওয়ার্ড) ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে আগ্রাবাদ ওয়ার্ড কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। সেই থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। আজো কাজ করে যাচ্ছি। রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে ৯৬ সালের অসহযোগ আন্দোলন এবং ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের পতন আন্দোলনেও দলের পাশে ছিলাম। ২০০৫ সালে ২৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আমি সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলাম। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম–১০ আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। সেই নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা প্রর্দশন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই। তাই এবার নির্বাচনের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মনোনয়ন চাইবো। দলের সভাপতি যদি মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো। নিজস্ব তহবিল থেকে এলাকায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয়–মসজিদ–মাদ্রাসায় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছি। মানুষের সেবার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছি জাবেদ–নুরুল ইসলাম–মমতাজ বেগম ফাউন্ডেশন নামে একটি সেবামূলক সংগঠন। এই সংগঠনের উদ্যোগে এলাকায় সেবামূলক কাজ করছি।’

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী বিজিএমইএ’র প্রথম সহসভাপতি মঈনুদ্দিন আহমদ মিন্টু বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ী হলেও আমার আসল পরিচয়–আমি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। আমার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা। এই আসনটি যখন ইউনিয়ন পরিষদ ছিল তখন আমার পিতা মরহুম মনির আহমদ এই এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করছি। এলাকাবাসীর সুখে–দুঃখে সবসময় পাশে ছিলাম, এখনও আছি। এলাকার প্রতিটি নেতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ রয়েছে। এলাকার মানুষের আগ্রহও রয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি–নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার। এলাকার নেতাকর্মী ও নানান শ্রেনী পেশার মানুষ চায় আমি নির্বাচন করি। মনোনয়ন দিবেন প্রধানমন্ত্রী; তিনি যদি মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করবো।’

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি নির্বাচনের মধ্যে উল্লিখিত আসনে চারবার জিতেছে বিএনপি এবং দুইবার জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডাঃ আফছারুল আমীন। নির্বাচনী পরিক্রমায় জানা যায়, ১৯৯১ সালে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ইসহাক মিয়াকে পরাজিত করে জয়ী হন। পরে উপ–নির্বাচনে বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জয়ী হন। এরপর ৯৬ সালের দু’টি এবং ২০০১–এর নির্বাচনেও এই আসন থেকে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসনটির সীমানা পুনর্বিন্যাস করে নির্বাচন কমিশন। পতেঙ্গা ও হালিশহরের বড় একটি অংশ নিয়ে আলাদা আসন (চট্টগ্রাম–১১) করা হয়।

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. আফছারুল আমীন ১ লাখ ৩৭ হাজার ১০৬ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই সময় তিনি বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানকে ৯ হাজার ২৯১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।   14.09.2018