বাড়ি চট্টগ্রাম সন্দ্বীপে ধরা পড়ছে প্রচুর মাছ

সন্দ্বীপে ধরা পড়ছে প্রচুর মাছ

288

কেফায়েতুল্লাহ কায়সার :
এক সময় সন্দ্বীপের ঐতিহ্যে ছিল গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান ও পুকুর ভরা মাছ। কালের আবর্তনে ও নদী ভাঙ্গনে এসব হারিয়ে গেছে সেই কবে। ঐতিহ্যের এই সন্দ্বীপে এসব এখন নিতান্তই স্বপ্ন। গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান ও পুকুর ভরা মাছ এখন তেমন নেই এই দ্বীপে।
এক সময় সন্দ্বীপের মানুষ পুকুর ও সাগরের মাছ খেয়ে শেষ করতে পারতোনা। আর এখন এসব মাছ দৈনিক চালান হয়ে যায় চট্টগ্রাম শহরে। ফলে চট্টগ্রাম শহরের চেয়ে এখন দ্বীপে দাম বেশি মাছের। তবে এই দৃশ্য পাল্টে গেছে গত কয়েকদিনে। ২২ নভেম্বর সকালে সন্দ্বীপের পশ্চিমে আজিমপুর এলাকায় বেড়িবাঁধে গিয়ে দেখা যায় নানা প্রজাতির সাগরের তাজা মাছ।
প্রায় চৌদ্দ জাতের মাছের দেখা মেলে এতে। ভোর থেকে গত কয়েকদিন ধরে মাছের বাজার বসছে এখানে। সকাল থেকে ক্রেতারাও ভিড় জমাচ্ছেন। তবে ক্রেতার চাহিদার চেয়ে মাছের পরিমাণ বেশি মনে হয়েছে। তাই দামও খুব কম। জেলেরাও অত দাম কষাকষি করছেনা। আগ্রহী ক্রেতা পেলেই কম-বেশি দামে ছেড়ে দিচ্ছে মাছ। বেড়িবাঁধের উপর সকালের মাছের হাটে ঘুরে দেখা গেছে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে বেশ সন্তুষ্ট ও হাসি-খুশি হয়ে কেনা-বেচা করছেন।
এ বিষয়ে জেলে কৃষ্ণলাল বলেন, ‘হেমন্ত ও শীতকালে মাছ একটু বেশি পাওয়া যায়। আমরা বেশ আনন্দিত। এই সৃজনে সব সময় ভালো মাছ পাওয়া যায়। তবে এই কয়দিন আবার দেখছি অতিরিক্ত মাছ আমরা পাচ্ছি। এর মধ্যে অন্তত সাগরের চৌদ্দ প্রজাতির মাছ আমরা পাচ্ছি। এখন যেই মাছগুলো পাচ্ছি এগুলোতে মানুষের চাহিদাও বেশি। চট্টগ্রাম শহরে চালান করার পরও পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ পাচ্ছে সন্দ্বীপবাসী।
আর এই কয়েকদিনে এত বেশি পরিমাণে মাছ সাগর থেকে পাওয়া যাচ্ছে যা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সকালের মাছগুলো কিছু চট্টগ্রাম শহরে চালান করলেও বিকালের মাছ সবগুলো আমরা রেখে দিচ্ছি সন্দ্বীপের জন্য। তা বিক্রী হচ্ছে দ্বীপের বিভিন্ন হাট-বাজারে। মাছ বেশি পাওয়া গেলে আমরা কম দামে বিক্রী করতে পারি। কিন্তু কম পাওয়া গেলে তখন আর কম দামে বিক্রি করা যায় না।’
জেলে কৃষ্ণলাল আরো বলেন, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সন্দ্বীপে মাছ ভালো পাওয়া যেত এখন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই নদীতে অনেক সময় মাছ মোটেও পাওয়া যায়না।
এদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, সন্দ্বীপে সবসময় ভালো মাছ পাওয়া যায়। এখানে যেই মাছ পাওয়া যায় তা সন্দ্বীপের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত বলা যায় এবং সব সময় মূল্যও কম থাকার কথা। সেখানে জেলেদের মধ্যেও এখন সিন্ডিকেট হয়ে গেছে। আবার কিছু বহিরাগত মাছ ব্যবসায়ীও এখন দৈনিক সন্দ্বীপ থেকে মাছ নিয়ে যাচ্ছে ও অন্যত্রে আরো চড়া দামে বিক্রী করছে। যার ফলে সন্দ্বীপের মানুষ এখন আগের মত সাগরের মাছ পায়না। #